জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গণধর্ষণে কিশোরীর মৃত্যু, যুবককে পুলিশে দিলো জনতা।

ম‌ুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ
মুন্সীগঞ্জ এক কিশোরীকে (১৬) জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে কৌশলে অচেতন করে বাড়িতে নিয়ে গণধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরু‌দ্ধে। শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে অভিযুক্ত ফয়েজকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মুন্সীগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযুক্ত প্রেমিক ফয়েজকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

পুলিশ জানায়, ফয়েজ তার ভুয়া জন্মদিনে দাওয়াত করে। বান্ধবীদের সঙ্গে নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী গত ৩১ ডিসেম্বর শহরের চরকিশোরগঞ্জে যায়। পরদিন ১ জানুয়ারি দুপুরের বান্ধবী তাকে অচেতন অবস্থায় বাড়ি দিয়ে যায়।

কিন্তু তার চেতনা না ফেরায় ২ জানুয়ারি সকালে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার কিছু পরেই নুরজাহান মারা যায়। পরে ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত করার কারণে মরদেহ মুন্সীগঞ্জে আসতে দুদিন বিলম্ব হয়।

নিহত স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগ- মেয়েকে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় বান্ধবীরা নিয়ে আসে। ফয়েজ নামের একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই ছেলে নুরজাহানকে চরকিশোরগঞ্জ নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে মদের সাথে অন্য কিছু মিশিয়ে খাইয়ে ফয়েজের বাড়িতে রেখে নষ্ট করে অজ্ঞান করে ফেলেছে। ডাক্তার বলেছেন, মদের সাথে সেক্সের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে খাওয়াইছে। ফয়েজে আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে।’

এক প্রতিবেশী জানান, অনুষ্ঠানে কৌশলে জুসের সাথে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর অজ্ঞান অবস্থায় বাসায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এমনও হতে পারে বন্ধুবান্ধব মিলে গণধর্ষণ করছে। নুরজাহানের শরীরে ও জামায় রক্ত ছিল। রক্ত বন্ধ করতে পারছিল না। অবস্থা বেগতিক দেখে অক্সিজেন দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন: মেয়ের ধর্ষণের বিচার পেতে আড়াই বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শিক্ষক দম্পতি

এদিকে ফয়েজ পুলিশের কাছে স্বীকার করে জানান, চরকিশোরগঞ্জ ঘাটে স্কুলছাত্রী ও তার এক বান্ধবীকে নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জন্মদিন পালন করে। পরবর্তীতে মনিকার মাধ্যমে স্কুলছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় ১ জানুয়ারি বিকালে গুহের কান্দির পিতার বাড়িতে দিয়ে যায়।

নিহতের বান্ধবী বলেন, ৩১ ডিসেম্বর রাতে নুরজাহানকে কৌশলে নিয়ে যায় বাড়িতে। মদ খাইয়ে সারারাত ধর্ষণ করে অজ্ঞান করে ফেলেছে। পরের দিন খবর দিয়ে ফয়েজের বাড়ি থেকে অজ্ঞান অবস্থায় নুরজাহানকে নিয়ে বাড়িতে দিয়ে আসি।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, আত্মীয়-স্বজনসহ লোকজন ফয়েজকে ধরে থানায় নিয়ে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।