মুন্সিগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের বাবলা বাহিনীর প্রধান নিহত,আটক-৯

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় দুই গ্রুপের কয়েক দফা সংঘর্ষে,আন্ত:জেলা নৌ-ডাকাত দলের,বাবলা বাহিনীর প্রধান উজ্জল খালাসী ওরফে বাবলা(৪২) প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো অন্তত ৩জন গুরুতর আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে মল্লিকের চরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ডাকাতি করা অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দের জেরে দুই গ্রুপের কয়েক দফা সংঘর্ষে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অভিযান চালিয়ে গুলির খোসা ও নগদ ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা,উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাবলার,বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ নৌ-ডাকাতি, চাঁদাবাজি,মারামারি,লুটপাট ও হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ২৪ টির অধিক মামলা রয়েছে এছাড়া নিহত বাবলা খাঁ (৪২) চাঁদপুরের মতলব উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাচ্চু খার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়,গতকাল রাতে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের মল্লিক চর এলাকায়,রহিম বাদশা নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাড়িতে রাত্রি যাপন করছিলেন নিহত বাবলা।

মৃত্যুর আগে এ বাড়িতে থেকেই বাবালা তার দলবল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নৌ-ডাকাতি, বালু উত্তোলন,মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছিলেন।

গত মাসখানেক ধরে উপজেলার কালিরচর ও গুয়াগাছিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় আরেক নৌ-ডাকাত গ্রুপের নয়ন, পিয়াস, রিপন পক্ষের সঙ্গে বাবলার দ্বন্দ্ব চলছিল।

এছাড়াও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বাবলার সঙ্গে তার গ্রুপের রহিম বাদশা ও ইমাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.জসিম উদ্দিনদের সঙ্গেও অন্তদ্বন্দ চলছিল।

সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে ট্রলারে করে ১৫-২০ জনের সস্ত্র একটি দল হেলমেট পরা অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে রহিম বাদশার বাড়ির দিকে আসেন।

এ সময় বাবালাও তাদের লক্ষ করে পাল্টা গুলি ছোড়েন। সে সময় স্থানীয় লোকজন ভয়ে যার যার ঘরে চলে যায়। পরে সকাল আটটার দিকে এলাকার লোকজন মসজিদে মাইকিং করে হেলমেটধারীদের ধাওয়া দেন। এরপর একপর্যায়ে রহিম বাদশার বাড়ির দুইতলার একটি কক্ষে বাবলার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে আটক করে,বাড়ির একটি কক্ষে আটকে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে,পুলিশ এসে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে,বাবলা গ্রুপের এক সদস্য ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান,রহিম,জসিমদের সঙ্গে অন্তদ্বন্দের ফায়দা নিয়ে নয়ন ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে হামলা করে বাবলাকে হত্যা করেছে।এ ঘটনার সঙ্গে রহিম বাদশা ও জসিমউদ্দিনরাও জড়িত থাকতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে,গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান,এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা মল্লিক চরের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়ির পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,নিহত বাবলার শরীরে, মাথায় গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে,ভাগবাটোয়ারার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

ওসি আরও বলেন,মুন্সিগঞ্জ, গজারিয়া, চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলায় ডাকাতি,চাঁদাবাজি,মারপিটসহ কয়েকটি অভিযোগে কম করে হলেও ২৪ টি মামলা রয়েছে বাবলার বিরুদ্ধে।

তবে কি কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে এটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ পাঠানো হয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।