মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলে আ.লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের শোলারচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.খলিলুর রহমান।

তিনি জানান,গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের শোলারচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ সহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে,আশঙ্কা জনক অবস্থায় নিপা সরকার (২৫) নামের গুলিবিদ্ধ এক নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় সোলারচর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা সাকান সরকারের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫) বাদী হয়ে রবিবার সকালে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামি হলেন,আধারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ মিয়া বেপারী,আধারা ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মুজিবুর ভুঁইয়া,স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী তাহমিদ বেপারী,তারা মিয়া ও জহিরউদ্দিন বেপারী সহ আরও ২৯ জন। এছাড়া অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ১৫ জনকে।

এদিকে,এ ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে,হামলা ও সহিংসতার আতঙ্কে বাড়ি ও গ্রাম ছাড়া রয়েছে অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে,জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান,ঘটনা সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পরবর্তী সংঘাত কিংবা সহিংসতার মত ঘটনা এড়াতে চলছে গোয়েন্দা নজরদারী।