মাদক ব্যবসার তথ্য ফাঁস করায় প্রাণ হারালেন রাব্বি।

দিগ্বজয় মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

মাদক চোরাচালানের তথ্য ফাঁস করায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফজলে রাব্বি নামের একযুবককে। এই হত্যা কান্ডের সাথে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এমন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানী রিপোর্টে। এ ঘটনায় মো. শাহ আলম নামের একজন আহত হয়েছে।

রবিবার ৯ জুন রাত ১১ টার দিকর জেলার সোনারগাঁয় উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে রাব্বী (২২) মোগরাপাড়া ইউনিয়নের আক্কাস আলীর ছেলে। নাম প্রকাশ্য না করার সর্তে স্খানীয়রা জানান,কিছুদিন আগে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সন্ত্রাসী হৃদয় ওরফে গিট্টু হৃদয়ের সহযোগী ফয়সাল অন্তুর নেতৃত্বে এই হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তারা এর আগে একসাথে মাদক চোরাচালান করতো।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে মাদক চোরাচালানের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ফাঁস করে দেয় ফজলে রাব্বি। পরে রাব্বির তথ্য মতে অভিযান চালালে র‍্যাব সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় মাদক সম্রাট হৃদয় (গিট্টু) হৃদয়। তার পর থেকে মাদক চোরাচালানকারীদের টার্গেটে পরিনিত হয় ফজলে রাব্বি।

পরে রবিবার ৯ জুন সুযোগ পেয়ে ফজলে রাব্বিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়ের সহযোগী ফয়সাল। পরে স্খানীয়রা আহত ফজলে রাব্বি ও তার একবন্ধুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর রাব্বী মারা যান। এই হত্যা কান্ডের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা জড়িত রয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোহসীন জানান, রোববার রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে মাদক চোরাচালানের দ্বন্দে এই হত্যা কান্ড হয়েছে কিনা তদন্তের পরই বলা যাবে।

এ ঘটনায় আহত মো. শাহ আলম স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নিহত রাব্বীর বন্ধু।
নিহতের মা শাহানারা বেগম জানান, রাতে শাহ আলমের সঙ্গে তার ছেলে বাইরে যান। পরে তারা জানতে পারেন যে তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন মাদক চোরাচালানের তথ্য দেয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন,আমার ছেলে মাদক চোরাচালানের তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সেই তথ্য পুলিশ বা র‍্যাবের কর্তকর্তারা মাদক চোরাচালানকারীদের না জানালে তারা কখনোই জানতো না যে আমার ছেলে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়েছে।

 

তাই আমার বিশ্বাস এই হত্যা কান্ডের সাথে পুলিশ জড়িত রয়েছে। তাই পুলিশ ও র‍্যাবের সহযোগিতায় মাদক চোরাচালানকারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তার৷ আহত শাহ আলম জানান, রাতে দুই বন্ধু বাড়ি মজলিস এলাকায় পৌঁছলে র‍্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত সন্ত্রাসী হৃদয় ওরফে গিট্টু হৃদয়ের সহযোগী ফয়সাল অন্তুর নেতৃত্বে কয়েকজন তাদেরকে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর রাব্বী মারা যান।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক সময় একসঙ্গে মাদক চোরাচালান করলেও সম্প্রতি নিহত রাব্বীর সঙ্গে ফয়সাল অন্তুর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়৷ উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন আগে মারামারির ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরেই রাব্বীকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

পুলিশ পরিদর্শক মোহসীন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে৷ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশকে কেউ মাদকের কোন তথ্য দেয়নি তাই তথ্য ফাস করার তো প্রশ্নই ওঠেনা।