রুবেল মাদবর, মুন্সিগঞ্জঃ
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন,আমরা একটি সৌভাগ্যবান জাতি। আমাদের জীবন ১৯৭১এ আসছে। এই একাত্তরে আমরা একটি স্বাধীন ভূকন্ড পেয়েছি। এখন আমাদের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আমি বলতে চাই আসেন আমরা সবাই কঠোর পরিশ্রম করি পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের এই বাঙালি জাতিকে এই শতাব্দী শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পরিনিত করি।
এজন্য আমাদের দরকার রাষ্ট্রের অন্যান্য যে অর্গান গুলো আছে তার সাথে তাল মিলিয়ে জুডিশিয়ালি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কারণ কারো একার পক্ষে সম্ভব না তাই বিচারকদের যেমন দায়িত্ব আছে তেমনভাবে দায়িত্ব রয়েছে আইনজীবীদের এবং সহকারীদের।
আমরা যেমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি তার সাথে আমাদের সাথে রেখে জুডিশিয়ালকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেই প্রচেষ্টা সবার মধ্যে থাকতে হবে। এজন্য বিচারক,আইনজীবী ও সহকারীসহ সকল শ্রেনীপেশার বিচারপ্রার্থীদের বলবো একে অপরে সহায়তা করবেন। যাতে করে বিচার প্রার্থী মানুষ আদালতে এসে হয়রানির শিকার না হন।
তিনি বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের জজ কোট প্রাঙ্গণে বিচার প্রার্থীদের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগারের ভিত্তি পোস্তরে এসে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন,
অনেক মামলা পেন্ডিং থাকে বছরে পর বছর এটা যদি কন্টিনিউয়াস থাকতেই থাকে এক সময় বিচার প্রার্থীরা বলতে পারে বা ভাবতে পারে যে এই দেশে বিচার আচার নাই। এটা যেন মনে না হয় জুডিশিয়ালের ব্যর্থতা যেটা আমরা হতে দিতে পারি না।
সেই জন্যই আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷ যাতে করে মামলার নিষ্পতির হার বাড়ে। আপনারাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন মামলা নিষ্পত্তির হার অনেক বেড়েছে । ২০১৯ সাল কম্পেয়ার করলে এই তুলনায় 2022 সালে প্রায় ৩০% মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
আমরা আশা করছি মামলা নিষ্পত্তির হার যদি বাড়তে থাকে যত মামলা ফাইল হচ্ছে তার চেয়ে ১২৫ পারেসন মামলা যদি নিষ্পত্তি করতে পারি তাহলে দেখা যাবে আগামী পাঁচ সাত বছরে পরে এখন যে অবস্থায় মামলার জট সহনশীল পর্যায়ে আসবে এবং মানুষ উপকৃত হবে।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন এই ন্যায়কুঞ্জে হচ্ছে তাদের জন্য যাদের জন্য বিচারালয় আইনজীবী ও আমরা সবাই তাদের জন্য কোন জায়গা ছিল না তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে যাদের জন্য আদালত যাদের জন্য আমরা তারা যেন আদালত প্রাঙ্গনে এসে একটু স্বস্তি পায় তাই৷
পুরো দেশে ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে করে প্রতিটি জেলায় ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ অনুযায়ী এই ন্যায়কুঞ্জ করা হচ্ছে যার ভিতরে মহিলা ও পুরুষ আলাদা শৌচাগার সহ বসে বিশ্রাম নেওয়ার সুব্যবস্থা থাকবে।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
এখন আমাদের ওয়েবসাইডে সফটওয়্যার আছে সেটাতে ক্লিক করলেই মোকাদ্দমার রেজাল্ট বিচার প্রার্থীরা জানতে পারবে।
আর ইংরেজিতে যেসব জাজমেন্ট গুলি হয় সেগুলো গুগল ট্রান্সলেটর মাধ্যমে এক ক্লিকে ইংরেজি থেকে বাংলা পরিবর্তিত হচ্ছে এতে করে বিচার প্রার্থীরা খুব সহজেই বিচারক কি রায় দিলেন বুঝতে পারে।
আমরা গত সপ্তাহে আইটি অ্যাপস উদ্বোধন করেছি সারাদেশে কতটি মামলা নথি যুক্ত হল এবং কতটি মামলা নিষপত্তি হলো চিফ জাস্টিসের মুঠোফোনে সংরক্ষিত আছে।
এছাড়াও কয়টা মামলা কোন মাসে কি কি কারনে নিষ্পত্তি হল এসব বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য একটি আলাদা কমিটি করে দিয়েছি। ফলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা আরো এগিয়ে যাব এবং আমি মনে করি যে যতটুকু অপরাধ করবে ততটুকু শাস্তি পেতে হবে।
এটা যদি নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। তাই আমরা সবাই এক সাথে চেষ্টা করি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে। যাতে এই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এর ভিত্তি হল জুডিশিয়ালকে শক্তিশালী করা।
জুডিশিয়াল যদি ফেল করে গণতন্ত্র ফেল করবে ও রাষ্ট্র ফেল করবে অতএ এটা আমরা হতে দিতে পারি না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব আমাদের বিচারক গন প্রচন্ড পরিশ্রম করে আমরা তাদেরকে আরো উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি যাতে করে মামার নিষ্পত্তির রেট বিচারব্যবস্থার জাজমেন্ট মান সঠিক রেখে নিষ্পতে রেট বাড়তে পারে সেজন্য আমাদের এত প্রচেষ্টা আমার মনে হয় ইনশাল্লাহ আমরা সাকসেস হব।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা জজ মোঃ মহিউদ্দিন, জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল,পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান আল মামুন পিপিএমবার।
এর আগে তিনি জেলার বিভিন্ন আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের সাথে মতবিনিময় করেন । এছাড়াও জেলা আইনজীবী সমিতির বর্ষপূতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।