লৌহজং মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দশটি ইউনিয়নে গ্রামে গ্রামে খেতের সবজি বিক্রির জন্য প্রস্তুত কৃষকরা।
লাভের মুখ দেখায় গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও সবজি আবাদে ঝুঁকেছেন জেলার লৌহজং উপজেলার কৃষকরা।
এক সময় এখানকার কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় জমিতে সবজি আবাদ করলেও এখন মূল ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি আবাদ করছেন তারা।
উপজেলার মেদিনী মন্ডল গ্রামের কৃষক মোঃ রমিজ মিয়া জানান, কয়েক বছর আগেও ১ বিঘা জমিতে সরিষা, তিল বা অন্য রবি ফসল আবাদ করতেন তিনি। তবে এখন রবি মৌসুমে পুরো জমিতেই গাজর আলু টমেটো ফুলকপি বেগুন চাষ করেন।

তিনি বলেন, ‘সরিষা বা অন্য রবি ফসল আবাদ করে ১ বিঘা জমি থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি লাভ করা যায় না, কিন্তু গাজর আলু টমেটো আবাদ করে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারছি।
মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার দশটি ইউনিয়নে -লাভের আশায় অনেক কৃষকই এখন গাজর ও টমেটোসহ বিভিন্ন শীতের শাক-সবজি আবাদ করছেন বলে জানান আনেক কৃষক।
শিমুলিয়া গ্রামের কৃষক মো. করিম শেখ- বললেন, ‘আমার ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড গাজর আলু টমেটো ফুলকপি বেগুন আবাদ করেছি।
১ বিঘা জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকার গাজর বিক্রি করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছি।
জমি থেকে গাজর তুলে নেওয়ার পর এখন শীতকালীন লাল শাক আবাদ করছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা খোরশেদ আলম –বলেন, ‘আশানুরূপ লাভের মুখ দেখায় মুন্সীগঞ্জ জেলার কৃষকরা সবজি আবাদের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন।এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলার ৪ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করে প্রায় ২ দশমিক ৬৭ লাখ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিতেও দ্রুত সময়ের মধ্যেই আবাদ সম্পন্ন হবে।’ ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবজি আবাদ হলে জেলায় সবজি ব্যবসা ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে’, বলেন তিনি।
মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর ও উপজেলার সিলই গ্রামের মো. তমিজ ইসলাম বলেন, ‘আগে আমি জমিতে কলা চাষ করতাম। এখন কুমড়া ও বেগুন চাষ করছি। স্বল্প সময়ে প্রতি বিঘা জমি থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছি।

লৌহজং ডহরী গ্রামের মো.সাহেদ জানান, সবজি চাষ আগে তার শখের মতো ছিল। এখন অল্প সময়ে সর্বোচ্চ লাভের জন্য ৫ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘাতেই সবজি চাষ করছেন।
এদিকে জেলায় সবজির ব্যাপক আবাদ হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আর অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে কৃষক প্রকৃত লাভ থেকে বি ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা। কৃষক হাসেম মিয়া বলেন, ‘বাজারে যখন ৭০ টাকা কেজির ওপর গাজর বিক্রি হয়েছে তখন মাঠ থেকে আমরা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মন দরে গাজর বিক্রি করেছি।
মাঠ থেকে ফড়িয়ারা কম দামে পণ্য কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে। ফলে ফসলের প্রকৃত দাম পাচ্ছে না কৃষক।’ সবজি ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে সবজির ট্রাকের ভাড়া প্রায় দিগুণ হয়ে পড়েছে। ১ ট্রাক সবজি ঢাকা পৌঁছাতে আগে ৭ হাজার টাকা লাগলেও এখন প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।