আজ মুন্সীগ‌ঞ্জে হানাদারমুক্ত দিবস।

মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

আজ ১১ ডিসেম্বর, মুন্সীগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে জেলাটি হানাদার মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ৯ মে হানাদার বাহিনী ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায় এ জেলার গজারিয়া উপজেলায়। সেদিন হানাদার বাহিনী ১০ টি গ্রামে ৩ শত ৬০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু তাই নয় জেলার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সাথে পাক সেনাদের কঠিন যুদ্ধ হয়।

১৯৭১ সালের এইদিনে হানাদার মুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ। ৭১ সালের ৯ মে হানাদার বাহিনী ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায় জেলার গজারিয়া উপজেলার ১০ টি গ্রামে। সে সময় ৩ শত ৬০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক সেনারা। এরপর ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর সম্মুখ যুদ্ধ হয় মুন্সীগঞ্জ শহর সংলগ্ন রতনপুর গ্রামে।

পাক সেনাদের তিনটি বড় দলের সঙ্গে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা এ যুদ্ধে অংশ নেয়। সেদিন ধলেশ্বরী নদীতে থাকা গানবোট থেকে মর্টার সেলিং করছিল পাকসেনারা। মিত্র বাহিনীর বিমান বহর এসে পড়লে পাকসেনারা পিছু হটে। পরে মিত্র বাহিনীর আক্রমণে পাক সেনাদের গানবোট বিধ্বস্ত হয়।

সেখানে ৩ জন পাকসেনার মরদেহ পাওয়া যায়। এতে ১৫ জন স্থানীয় নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো।

এরপর চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মুখে ১০ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে ঘন অন্ধকার আর প্রচন্ড শীতে হরগঙ্গা কলেজের দূর্গ থেকে হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। হরগঙ্গা কলেজে ছিল হানাদার বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প। সেই কলেজের পূর্ব পাশের বধ্যভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। নির্যাতন-হত্যা ছাড়াও অসংখ্য নারী সম্ভ্রম হারায় এখানে।

এর আগে ২৯ মার্চ মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজের শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার সামনে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করা হয়। হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ জি এম এ মান্নান পতাকা উত্তোলন করেন।
১১ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিসেনাদের জয় বাংলা শ্লোগানে আর বিজয় মিছিলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে চারদিক। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি বিধৌত মুন্সীগঞ্জ জেলাটি শত্রু মুক্ত হয়।

জেলার সর্বত্র আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি শুরু হয় হারানো স্বজনদের খোঁজার পালা। কেউ জীবিত পেয়েছেন স্বজনদের আবার কেউ চিরতরে হারিয়েছেন আপনজনদের। দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনিস উজ্জমান আনিস, কমান্ডার, মুন্সীগঞ্জ জেলা ইউনিট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন — মুন্সীগঞ্জ সদর উপ‌জেলায় আমরা থানা অপা‌রেশন পাকবা‌হিনীর

পাকবাহিনীরা হরগঙ্গা কলেজে অবস্থান করছিলো, তাদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়, এই যুদ্ধে রামাপাল কলেজ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা প্রায় ৭০ জন একত্র হয়ে ৮ ভাগে ভাগ করি। গ্যারিলা পদ্ধতিতে আমরা ওদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। যুদ্ধ শুরু করি, একজন নিহত হয়, এক পাকবাহিনী আমাদের ভয়ে পিছু হটে। প্রথম আমরা লৌহজং থানা অপারেশন সেই থানা আমরা জালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করেছি।

১০ তারিখে তারা রাতের আধারে পালিয়ে যায়। আগেই চিরকোট এর মধ্যেমে বলেছি আমরা তোমাদের চারদিকে অবস্থান করেছি স্যারেন্ডার করো, না হয় পালিয়ে যাও, তানা হলে হলে তোমাদের হত্যা করা হবে। তারা ভয়ে পালিয়ে যায় আমরা ১১ তারিখে হানাদার মুক্ত করি।

১১ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস মুন্সীগঞ্জ বাসীর জন্য বিশেষ করে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা লড়াইয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম।

দ্বীর্ঘ ৯ মাস লড়াই করার পর, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ওরা যখন শহর কেন্দ্রিক হয়ে উঠে। তখন আমরা আক্রমন করতে থাকি পাক হানাদাররা টিকতে না পেরে ১০ তারিখ রাতে তারা মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন ১১ডিসেম্বর আমরা হানাদার মুক্ত দিবস পালন করে আসছি।

১৯৭১ সালে আগস্ট মাস থেকে সাড়া দেশে হানাদার মুক্ত হতে থাকে ১৬ই ডিসেম্বর এর আগ পযন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে মুক্ত হতে থাকে। মুন্সীগঞ্জ জেলোর বিভিন্ন থানা মুক্ত হতে থাকে ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ থানা অপারেশনের পরে হরগঙ্গা কলেজে সেনাবাহিনীরা অবস্থা করছে।

সেখানে আমরা আক্রমন করবো, আমরা জানতে পারলাম ওদের সংখা একটু কম তখন আনিস উজ্জামান আনিস একটি চিরকোট পাঠায় চিরকোটে লিখা ছিলো তোমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ত্যাগ না করলে তোমাদের ধূলিৎসার করে দিবো। এই চিরকোট তাদের কমান্ডারের কাছে পাঠায়। ১০ তারিখে রাতে পাকহানাদাররা মুন্সীগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায়। ১১তারিখ আমাদের মুন্সীগঞ্জ মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িতে আর্মি ঘেড়াও দিয়েছে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আরো ৩-৪ জনকে ধরে নিয়ে যায় হরগঙ্গা কলেজে। এখানে বধ্যভূমি আছে সেখানে একটা ছিলো টর্চার সেল আরেকটা ছিলো গণ কবর।

হরগঙ্গা কলেজের সামনেই পাকসেনাদের ক্যাম্প ছিলো চারদিকে গোলাগুলি আমরা রাতে ইচ্ছা করে গোলাগুলি করি তারা আতংক হয়। তারা মনে করেছে মুক্তিযোদ্ধোরা ঘেড়াও করে ফেলছে। ওই রাতেই তারা মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে চলে যায়। পরদিন ১১তারিখে হানাদার মুক্ত হয়, আমরা আনন্দ মিছিল করি। #