মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চলের আধারা ইউনিয়নে আধিপত্যের লড়াই থামছে না। সোলারচর ও বকুলতলা গ্রামে ৪০ বছর ধরে দু’পক্ষের সংঘাত-সহিংসতায় এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচজন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। এসব সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হলেও উদাসীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ তেমন কোনো রনো অভিযান চালায় না। ফলে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সর্বশেষ গত সোমবার আধারা ইউনিয়নের বকুলতলায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন পথচারী মনির হোসেন মোল্লা (৬৫)। বছরের পর বছরে ধরে চলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী
আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৯৮৮ সালে মজিবর রহমান, ১৯৯৯ সালে দুলাল মাঝি, ২০০০ সালে আক্তার হোসেন ও ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ কর্মী রুবেল মিয়া নিহত হন। গতকাল মঙ্গলবার দুই গ্রামে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রামবাসী জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া বেপারী, সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হক মোল্লা এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী হোসেন সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সর্বশেষ খুনের ঘটনাটি ঘটে। এই সংঘাতে ১১ জন গুলিবিদ্ধ হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে । তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। এর আগের চারজনও তাদের বিরোধের বলি হয়েছেন। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও জড়িতদের কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে মনিরের লাশ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মুন্সীগঞ্জে আনা হয়। লাশ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। অবিরাম কেঁদেই চলেছেন মনিরের স্ত্রী মঞ্জুর বেগম। বাকরুদ্ধ মেয়ে শিউলি আক্তার, ছেলের বউ সামিয়া আক্তারসহ স্বজনরা। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
মনিরের পুত্রবধূ সামিয়া আক্তার জানান. সংঘর্ষের সময় মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মঞ্জু বেগম বলেন, তাঁর স্বামী কোনো দলাদলির মধ্যে ছিলেন না। তাঁর স্বামীকে কেন মারল তারা। হত্যাকারীদের ফাঁসি চান তিনি।
বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি থমথমে। সংঘর্ষকারীরা অস্ত্র ও গুলি নিয়ে অবস্থান করায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব জানান, সংঘর্ষে অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য পেতে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। অস্ত্র উদ্ধারে শিগগির অভিযান চালানো হবে।