স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তার মানবিক গুণাবলী ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসার স্মৃতি রেখে গেছেন সিরাজদিখান উপজেলা বাসির হৃদয়ে।
একজন অফিসার ইনচার্জ কতটা জনপ্রিয় এবং মানবিক হলে তার থানার প্রতিটা স্টাপ, অফিসার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ তার বিদায় কষ্ট অনুভব করতে পারে।
গত একটি বছর অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সিরাজদিখান থানার যোগদান করার পর থেকে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল, সামাজিক ও মানবিক কাছে আন্তরিকভাবে কাজ করে বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়ের সাথে আপস করেননি, এ এক বছর সিরাজদিখান থানা ছিল সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর একটি নিরাপদ স্থান।
মোহাম্মদ বোরহানউদ্দিন সিরাজদিখান থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করাকালীন এই উপজেলা হেফাজত ইস্যু নিয়ে উত্তপ্ত ছিল। ঊর্ধ্বতনদের পরামর্শে তিনি যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে হেফাজত ইস্যু শক্ত হাতে মোকাবেলা করেন। হেফাজত তাণ্ডবে জড়িত অপরাধীদের অল্প কয়েক দিনে গ্রেফতার করে কোর্টে হাজির করতে সক্ষম হন।
এছাড়াও সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে বালুরচর ইউনিয়নের কিছু এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দীর্ঘদিনের বিবাদমান টেঁটা বল্লম যুদ্ধে রক্তপাত নিরসন ও এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কয়েক গ্রাম থেকে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজার হাজার সেটা বললাম স্বেচ্ছায় জমা দেন।
টেঁটা বল্লম স্বেচ্ছায় জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরন করেন তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। উপজেলাবাসীর নাগরিকদের কাছে প্রশংসনীয় হন।
১৮০.১৯ বর্গ কিলোমিটারের প্রায় আড়াই লক্ষ জনসাধারণকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য তিনি যোগদানের পর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মসজিদগুলোতে জুমার দিনে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে। বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণ, ডেঙ্গু জ্বর, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মুসল্লীদের সাথে মতবিনিময় করে। মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। গেল বছরে কিশোর দাংয়ের ১০ জন সদস্যকে আটক করে কোর্টে চালান দেওয়ার পর। সিরাজদিখানে কমে গিয়েছিলো কিশোর গ্যাং এর উৎপাত।
সিরাজদিখান বাসীকে সচেতন করতে বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ এই সব স্লোগানে বিট পুলিশিং কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে সবেচতনতামূল মাইকিংসহ তিনি নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজায় দরজায় বিট পুলিশিং এর সচেতনতামূলক স্টিকার লাগিয়েছেন।
মোহাম্মদ বোরহান সিরাজদিখান থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করার আগে তিনি ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন মাদারীপুর জেলার সদর থানার আব্দুল ওহাব মিয়ার ছেলে।
গত ১০ এপ্রিল শনিবার তার কর্মস্থল সিরাজদিখান থানা থেকে তার সহকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।
ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের জন্য তার সহকর্মীরা জানায় যেখানেই থাকুক সর্বদাই তার সুস্থতা কামনা ও মানুষের ভালোবাসা থাকবে।