নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি গ্যাস লিকেজ থেকেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান,
ঘটনার পর রাতভর বোম্ব ডিসপোসাল ইউনিউট ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন। এছাড়া সিআইডি, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের আলামত পরিক্ষা করে বোমার কোন আলামত পায়নি।
পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্ফোরণটি গ্যাস লিকেজ থেকেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
এর আগে মঙ্গলবার(৬এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় এ বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পৌর মেয়র আব্দুস সালামের স্ত্রী, পৌরসভার ২ প্যানেল মেয়র সহ ১৩জন দগ্ধ হয়েছে।
আহতরা হলেন, মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা(৫৫), আওলাদ হোসেন (৪০), কাউন্সিলর দ্বীন ইসলাম, মোঃ সোহেল, মেয়র আব্দুস সালামের দ্বিতীয় স্ত্রী কানন বালা (৪০), যুবলীগ কর্মী তাইজুল(২০), মোঃ মোশারফ(৬২), মনির হোসেন(৫০), শ্যামল দাশ(৪৫), পান্না(৫০), কালু(৪০), ও মহিউদ্দিন।
এদের মধ্যে রহিম বাদশা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে।
গুরুত্বর আহতদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রীর কানন বালা বেগমকে আশংকাজনক অবস্থায় আইসিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার দেহের ৬০ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মঙ্গলবার রাতে মেয়রের বাসার তৃতীয়তলার একটি কক্ষে মেয়রের সঙ্গে আলাপচারিতা করছিলেন পৌর কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
মুহুর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচ ফেঁটে চুরমার হয়ে গেছে। এ সময় বিস্ফোরনের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেয়র স্ত্রীর ও ২ প্যানেল মেয়র সহ ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকেই ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় এঘটনা ঘটে বলে ধারনা করা হচ্ছিলো। সে সময় মেয়র স্ত্রী রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়েছিলো বলে জানান কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
এব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম বলেন, রাতেই বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ফায়ার সসার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান।
নবনির্বাচিত মেয়র আব্দুস সালামের বাসায় যে কোন কারনে গ্যাস লিকেজ থাকায় পুরো বাসায় গ্যাস চেম্বর হয় এবং স্পার্কের ফলে বিস্ফোরনের ঘটনাটি ঘটে।