পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
এক সময়ের সকলের চিরচেনা ও পরিচিত পলাশ গাছ ও পলাশ ফুল এখন অত্বিত্ব সংকটে। শুধু পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জেই নয় দেশের কোথাও এখন পলাশ গাছ খুঁজে পাওয়া দুস্কর।
এক সময়ে বন জঙ্গলের দিকে তাকালেই দেখা মিলত চির পরিচিত পলাশ গাছ ও ফুলের। লাল টকটকে অগ্নিধারন করে দাড়িয়ে ছিল বন জুঁড়ে। তাই তো পলাশকে বলা হতো বনের অগ্নিশিখা। পুরনো গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা না করা এবং নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় এ গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।
উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কপালভেড়া গ্রামে থানার প্রধান ফটকের সামনে রাস্তার পাশের জমির উপর লাল শাড়ী পড়ে দাড়িয়ে আছে রিবাট বড় একটি পলাশ গাছ । গাছটিতে ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। গাছটি অনেক দিনে পুরানো। জানা যায়, পলাশ বসন্তের প্রতীক। রঙভরা বসন্তে পলাশের বিশাল দখলদারিত্ব। পলাশ ফুটলেই বোঝা যায় ফাগুন এসেছে।
টিয়া পাখির ঠোঁটের সঙ্গে পলাশ ফুলের দারুন মিল। সে জন্যই বুঝি পলাশ গাছে বসে টিয়া পাখীর মেলা। আর একই কারণে পলাশের প্রচলিত ইংরেজি নাম প্যারোট ট্রি। আবার পলাশ দেখতে অনেকটা বক ফুলের মতো কিন্তু ফুলে গন্ধ নেই। পলাশ মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ। শীত আসলেই এ গাছের পাতা ঝরে যায়। বসন্তে গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।
পলাশ এর ফুল দুই প্রকার এক প্রকার পলাশ ফুলের রং আগুনের মতো লাল। আবার হলুদ ও লালচে কমলা রংয়ের। পলাশ গাছের বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের মত পলাশের গাঢ় সবুজ ত্রিপত্রী হিন্দু দেবতা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কেউ কেউ মনে করেন পলাশ গাছের নিচে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। সংস্কৃতিতে পলাশ হচ্ছে কিংসুক। বাংলা ও হিন্দি নাম পলাশ। মণিপুরি ভাষায় পলাশ হচ্ছে পাঙ গোঙ। আদি নিবাস ভারত উপমহাদেশ।
বিলুপ্ত প্রায় এ পলাশ গাছের মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় অন্যান্য গাছের সাথে পলাশ গাছের চারাও রোপণ করা উচিৎ। এ গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় পরিবেশের সৌন্দর্য বর্ধনকারী এ গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলাদেশে পলাশ নামের কোন গাছ ছিল।