নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা এবার দু’মাস পিছিয়েছেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন।
মন্ত্রনালয়ের ছাড়পত্র না পাওয়ায় এ মেলা পেছানো হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার মহামারীর কারণে ২০২১ সালে মেলা জানুয়ারী থেকে পিছিয়ে মার্চে আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন এবং পুনরুজ্জীবনের লক্ষে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, সাধারণত জানুয়ারীতে আমরা মেলার আয়োজন করে থাকি। করোনা মহামারীর কারণে এ বছর আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছি।
সেই আবেদনের কোন উত্তর আমরা এখনও পাইনি। ফেব্রুয়ারির শেষে কিংবা মার্চের প্রথমে আমরা মেলা শুরু করতে পারবো আশা করছি।
সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে প্রতি বছর।
মেলায় নওগাঁও ও মাণ্ডরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাখা ও নক্শি পাখা, রংপুরের শত রঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারু শিল্প, নকশি কাথা,
বেত ও বাঁশের কারুশিল্প, নকশি হাতপাখা, সিলেট ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য,
কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁয়ের পাটের কারু শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পট চিত্র, ঢাকার কাগজের হস্ত শিল্প প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজউৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান,
বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী থাকে।