রাজনৈতিক বন্দীর জবানবন্দিতে উঠে এলো পুলিশের গুম, নির্যাতন ও ‘জুলাই গণহত্যা’র চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর এক ছাত্রদল নেতার জবানবন্দিতে। গত ২৮ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে তাঁকে আটক করেন বংশাল থানা পুলিশ। এরপর দুই দিন তাকে গুম করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। চিকিৎসা সেবাও নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্র নেতা।

বলছি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেদায়েত হোসেন সজীবের কথা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছেন একের পর এক মামলার আসামি। সর্বশেষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডাকে এক দফা এক দাবি আদায় ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন পুলিশের কাছে।

তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম রাজাকাররা দেশ স্বাধীন করল, দেশপ্রেমিকরা পালিয়ে গেল। “কখনো ভাবিনি এই পৃথিবীর আলো বাতাস আবার দেখব। আল্লাহর কাছে শুধু চাইতাম যেন দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়, কারণ তাদের নির্যাতন সহ্য করার ক্ষমতা আর ছিল না। এমনকি আমি চাই না আমার শত্রুরাও এই যন্ত্রণা ভোগ করুক।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, র‍্যাব-১০ ও পুলিশ আন্দোলনকারী ছাত্রজনতার উপর নির্বিচারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

তাঁর ভাষ্যমতে, “বিএনপি, জামায়াত বা সাধারণ ছাত্র—সবাইকেই একটি ছকের মধ্যে ফেলে নির্যাতন করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ এখানে রক্ষা পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাখির মতো গুলি চালায়, যাতে বহু মানুষ নিহত হন। এই ঘটনাকে তিনি ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর ভাষায়, “সারা বিশ্বের বিবেকে নাড়া দিলেও হাসিনা ও তার দোসরদের মন গলেনি। স্বৈরাচারী হাসিনা কী তা একমাত্র তারাই জানে যারা আয়নাঘর, ডিবি কার্যালয় ও টর্চার সেলে প্রেরিত হয়েছে।”

জুলাই মাসের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সরকার পতনের পর এই ছাত্র নেতাসহ বহু রাজনৈতিক বন্দী রাজবন্দী হিসেবে মুক্তি পান।

এই জবানবন্দি শুধু একজন ব্যক্তির কষ্টের অভিজ্ঞতা নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের দলিল হয়ে রইল—যা দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং বিচার বহির্ভূত নির্যাতনের বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে।