মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দলটির শতাধিক নেতা কর্মি। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নে।
সেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি জসিমউদ্দীন,লতব্দী ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রহিজুদ্দিন ফালু ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ মীর (রুক্কুল মীর) এর নেতৃত্বে কয়েক শত বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে বিএনপি নেতা সর্মথকদের বাড়িঘরে তান্ডব চালিয়ে দলটির নেতা আবু ইউসুফ তারা,
আনিছ বেপারী,নুর খান বেপারীর বাড়ি সহ বিএনপির সমর্থকদের ২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও স্বর্ণ অলংকার নগদ টাকা সহ মালামাল লুটে নেয় এবং কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করার ঘটনা ঘটে। এতে বাদ পরেনি লতব্দী ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো আনোয়ার হোসেন মাদবরের বাড়িঘর।
সেই ৮ আগষ্ট থেকে প্রতিনিয়ত উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের নতুন ভাষানচর গ্রামে এঘটনা ঘটে চলছে। এসব ঘটনায় টেটা বৃদ্ধ হয়ে বাকপ্রতিবন্ধি সহ ১৬ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে ।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায় রাস্তার মাঝে পিলার স্থাপন করে কয়েক পরিবারের লোকজনের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করা কে কেন্দ্র করে ২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের নতুন ভাষানচর হাজী মার্কেট এলাকায় প্রথম দফা সংঘর্ষ বাধে এ-সময় ভাংচুর,লুটপাট, টেঁটাবৃদ্ধ হয় ৪ জন।
এসময় ইটপাটকেলের আঘাতে আরো কয়েক জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।এই ঘটনার জেরে গত ৮ আগষ্ট ভোর ৬ টা থেকে ১২ আগষ্ট সোমবার মধ্যে রাত পর্যন্ত দফায দফায় চলছে এই হামলা ও লুটপাটে ঘটনা । এতে চরম ভাবে আতঙ্কিত হয়ে গ্রাম ছেড়েছেন বিএনপি সহ শাতাধিক নিরীহ গ্রামবাসি।
সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা ও বিচারের দাবী জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিউলি বেগম নামের এক নারী বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় হামলায় আমাদের বাড়িঘরে সব লুটি নিয়েছে। প্রতিদিন রাতে তারা হামলা চালাচ্ছে।
এতে আমাদের গ্রামে ১৫ থেকে ২০ জনকে গুরুতর আহত করেছে। বর্তমানে গ্রামটি পুরুষ শূন্য রয়েছে।
হামলা ভাংচুরের বিষয়টর সত্যতা শিকার করে বালুর চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ৫ আগষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ১০ থেকে ১২ টি বসতঘরে তান্ডব চালিয়ে লুটপাট করে৷
এসময় আমাদের ১০ জনকে টেটাবৃদ্ধ ও কুপিয়ে আহত করে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা কাউকে এলাকা ছাড়া করি নাই যার ইচ্ছা সে বাড়িতেই থাকতে পারে।
উল্লেখ্য সিরাজদিখান-বালুচর মেইন সড়ক হতে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের নতুন ভাষানচর ব্রিজের ঢালে হাজী মার্কেট সংলগ্ন জয়নাল মিয়ার বাড়ি থেকে কাদির সিকদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার ইট বিছানো কাঁচা রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এলাকার মানুষ চলাচল করে আসছে।
গত ২৪ জুলাই রাতে সে রাস্তায় অটোরিকশা চলাচলের কারনে রাস্তায় লাগোয়া মৃত হাজী চান মিয়ার ছেলে কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদ নুরু হেনার রান্না ঘরের সমস্যা হয়।
সমস্যার কারনে নুরু হেনার স্ত্রী হেনা বংশের মৃত আমির হোসেন হেনার ছেলে হাবিবুল্লাহ হেনা ও সাফায়েত উল্লা হেনা সহ কয়েক জনকে ডেকে নিয়ে রাস্তার মাঝের ইট সড়িয়ে পিলার স্থাপন করে যে কেউ পিলার সরালে হাত কেটে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এতে করে সড়কটি দিয়ে যাতায়েত কারি ভুক্তভোগীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পিলার সরানোর বিষয়ে বিএনপির নেতা আনিছ বেপারী ও লতব্দী ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো: আনোয়ার হোসেন মাদবর মীমাংসার চেষ্টা করেন।
২৫ জুলাই সকালে হাজী মার্কেটে এবিষয়ে আলী হোসেন মোল্লার সাথে আগে থেকে জড়ো হওয়া হাবিবুল্লাহ গংদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এ-সময় আলী হোসেন মোল্লার সাথে নুর হোসেন বেপারী যোগ হয় হাবিবুল্লাহ গং হামলার উদ্দেশ্যে আলী হোসেনদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়।