নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের মানববন্ধন

রুবেল মাদবর, মুন্সীগঞ্জ:

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ীবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে, শিলিমপুর  তস্তিপুর ইসলামী লাইফ সংগঠন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার তস্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নদীভাঙন এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ভাঙ্গনকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা বলেন, নদী ভাঙনে এই এলাকার অনেকের আবাদি-অনাবাদি জমি ও বসতভিটা, ঘর-বাড়ী সহ প্রায় শতাধিক স্থাপনা এরইমধ্যে  নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এখনো হুমকির মুখে রয়েছে আউটশাহী ইউনিয়নের তস্তিপুর, শিলিমপুর, মির্জানগর, জহরপুরা, কাইচাইল গ্রামের কয়েক শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা সহ নানা স্থাপনা।

মানুষের বসতভিটা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা গুলো রক্ষার্থে ভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ইতিমধ্যে তস্তিপুর এলাকায় প্রায় ১২০টি পরিবারের বসতভিটা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা  গেছে নদী ভাঙনের ফলে অনেকের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরফলে বসতভিটা হারিয়ে অনেকে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে, অনেকে খোলা আকাশের নিচে টিনের ছাউনি দিয়ে ঘর বানিয়ে দিন যাপন করছে।

আবার অনেককে দেখা যায় নদীর পারেই আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। তস্তিপুর, শিলিমপুর এলাকার মানুষ দূচিন্তা ও হতাশায় মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

তস্তিপুর এলাকার বাসিন্দা সবুজ খান জানান, নদীর তীব্র স্রোতের কারনে ভেঙ্গে গেছে তাঁর বসত ভিটার পনেরো শতাংশ জমি ও বসত ঘর। এখন খোলা আকাশে নিচে বসবাস করতে হয়।  অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয় ,আমার মতো যেন আর কারও বসত ভিটা বিলীন না হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর মাস্টার বলেন, নদী ভাঙ্গনের মুখে থাকি, ভয়ে রাতে ঘুমাতে পাড়ি না, প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনের আতঙ্ক নিয়ে দিন-রাত কাটাতে হয়। ভাঙ্গনের শিকার আরেক এলাকাবাসী মোহাম্মদ শহীদ খান  বলেন, গত দুই বছর যাবৎ বর্ষাকাল এলেই আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়, এই নদীর নিকটবর্তী এলাকার অধিকাংশ মানুষ দিন মুজুর, কৃষিজীবি খেটে খাওয়া মানুষ।

ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন স্থানীয়, বাক্কার ভুঁইয়া, আফজাল মোল্লা, অপু শেখ, আলকাছ মোল্লা, মুন্না শেখ, আকলিমা খাতুন, শেখ মোহাম্মদ, আক্তার হোসেন, ফজলুল হক। এলাকাবাসীর দাবি এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙ্গন রোধ করা, দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙ্গনকবলিত এসব গ্রামবাসী।

কারন নদী তীরবর্তী এসব গ্রামগুলোতে ভাঙ্গন সন্নিকটে এখন ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কোল্ড স্টোরেজ।