রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় বেপরোয়া ছাত্রলীগ যুবলীগ ঘটছে প্রাণহানীর ঘটনা

দ্বিগীজয় মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: রাজনৈতিক চাপে পুলিশী কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারায় দিনে দিনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বেড়েই চলছে নারায়ণগঞ্জে । এতে করে ছোট থেকে বড় সহিংসতা সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলছে৷ অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের বড়বড় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এদের বিরুদ্ধে পুলিশী কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয় ঘটছে সহিংসতা সংঘর্ষ। এতে করে হতাহত হচ্ছে পথচারি নিরীহ মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ বিল্লাল হোসেন (৪৫) নামের এক রেস্তোরাঁর বাবুর্চি মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ১ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সাঈদের বরাত দিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জ ক্রইম রিপোর্টর জানিয়েছেন, বিল্লাল হোসেন প্রিন্স রেস্তোরাঁর বাবুর্চি ছিলেন।
ওসি জানান, মাইক্রোবাসে মোটসাইকেলের ধাক্কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার (৩১ মে) ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াজের নেতৃত্বে একদল লোক রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা যুবলীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক বায়েজিদ সাউদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

হোটেলটির মালিক নাদিম সাউদ বলেন, ‘বিকেলে ঘটনার সময় আমি মসজিদে ছিলাম৷ কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ২ পক্ষের মারামারির সময় গুলিতে আমার এক বাবুর্চি আহত হয়েছে। প্রথমে তাকে রূপগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল৷ সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ওই ব্যক্তির পেটের বাম পাশে গুলি লাগে।’
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, বিল্লালের স্ত্রী সাজেদা বেগম ২১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার এজাহারনামীয় ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তার ২ জন হলেন বরপা এলাকার মামুন (২৩) ও একই এলাকার অপু সাউদ (৩০)। তারা ২ জনই রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজির আহমেদ রিয়াজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে নাম প্রকাশ্য না করার সর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন,চাইলেও পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। তিনি বলেন,ক্ষমতাসীন দলের বড়বড় রাজনৈতিক নেতাদের হাত রয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর তাই তাদের বিরুদ্ধে চাইলেও পুলিশ প্রশাসন কোন রুপ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেনা।