মুন্সীগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ টাকাসহ ৭ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

বিভিন্নস্থানে গরুর ট্রলারে ডাকাতি করে নদী পথে পালানোর সময় ৪টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) ও নগদ টাকাসহ ৭ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

মেঘনা নদীতে নিয়মিত টহলের সময় ডাকাত সন্দেহে নৌপুলিশের টিম ডাকাতদের ধাওয়া করলে ডাকাতরা স্পিডবোট থেকে নদীর তীরে নেমে দৌড়ে গ্রামের বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ে।

মঙ্গলবার (২ মে) সন্ধ্যার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পরে এলাকাবাসী সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭ ডাকাতকে আটক করে।

এ সময় নৌপুলিশ, মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান), ১১ রাউন্ড কার্টুস, ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত স্পিডবোট, ৮ টি পুরাতন মডেলের মোবাইল ও ১ টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

ডাকাতরা হলেন, শরীয়তপুর জেলার মো.রহমান (৩৮), পিতা মো. মোবারক, শরীয়তপুর মো.এবাদুল (৩৫), পিতা মৃত রকমত আলী বেপারী, চাদপুরের মো.তাইজুল (২৭), পিতা মৃত আজম বেপারী, মুন্সীগঞ্জের মো.মহসীন (৩০), পিতা মো. সাহাবউদ্দিন, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মো.মেহেদী (২৫), পিতা মো. মোতালেব, মুন্সীগঞ্জের মো. শিহাব মোসলেম (২২), পিতা মো. চুন্নু দেওয়ান ও নারায়নগঞ্জের মো. শাহিন (৩৫), পিতা মৃত রফিক বেপারী।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭ ডাকাতকে আটক করে। এ সময় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ টাকাসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তারা ডাকাতি করে নদী পথে পালিয়ে যাচ্ছিলো এ সময় নৌপুলিশ তাদের ধাওয়া করে। আটককৃতদের মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মো.কামরুজ্জামান জানিয়েছে এ ঘটনায় আরও ১৩ ডাকাত পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান জানান, মানিকগঞ্জের আরিচায় গরু বোঝাই ট্রলারে ডাকাতি করতে যায় একদল ডাকাত। সেখানে নৌ-পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ডাকাত দলটি প্রথমে চাঁদপুরের মোহনপুরে ও পরে মেঘনার শাখা নদী হয়ে বিকেলের দিকে জেলা সদরের বাঘাইকান্দি গ্রামের বাবুল মিয়ার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। এরপর গ্রামবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে পৌঁছে বাবুলের বাড়ির বসতঘর থেকে ৭ ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ওসি আরও বলেন, ২০ ডাকাতের মধ্যে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও ১৩ ডাকাতকে আটক করার জন্য পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#