মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পবিত্র কোরআন অবমাননা করায় এক যুবক আটক।

মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নে প্রায় এক মাস ধরে মন্দির ও মসজিদের বাথরুম সহ বিভিন্ন নোংরা স্থানে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে অবমাননার ঘটনায় সাব্বির (২২) নামে
এক যুবককে আটক করেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তাকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ১ মাস ধরে শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া এলাকায় বিভিন্ন মসজিদের বাথরুম ও মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে একটি চক্র। এ চক্রটি প্রথম
গত ১৭ জানুয়ারী পশ্চিম বাঘড়ার একটি মসজিদের বাথরুমে পবিত্র কোরআন শরীফ ফেলে রাখে। এরপর থেকে রাস্তা, নর্দমাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই কোরআন শরীফের ছেড়া অংশ পাওয়া যায়। এমন ঘটনা চলতে থাকে টানা ১০ দিন পর্যন্ত।
এতে মুন্সীগঞ্জ জেলার গোয়েন্দাসহ পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষন করেন।

পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজবংশী পাড়ার মনসা মন্দিরের ঘাটের উপরে একটি কোরআন শরীফ খুলে রেখে দেওয়া হয়। সকালে মন্দিরে পূজা দিতে দেলে বিষয়টি চোখে পড়ে।
গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি একই রকম ভাবে দুটি মসজিদের প্রসাবখানায় কোরআন শরিফ রেখে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাঘড়া মিয়া বাড়ি জামে মসজিদের প্রসাবখানায় কোরআন শরিফের কয়েকটি পাতা ছিড়ে রাখার সময় সাব্বির (২২) কে ওই এলাকার আরমান (১০) ও সামিউল (১০) নামে এলাকার দুই শিশু তাকে দেখে ফেলে। এ সময় তাদের আত্বচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সাব্বির দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশি অভিযানে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে তাকে বাঘড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানায়, সে ও আজ্ঞাত নামা আরো ২-৩ জন মিলে এই কদিন ধরে ধর্মীয় উস্কানি দিতে লাগাতার ভাবে কোরআন শরিফ অবমাননা করে গেছে। দিনমজুর সাব্বির বাঘড়া এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামীকে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে তার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।#