মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিমে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে,স্বামী আট।

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে তানহা মাহমুদা (২০) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর স্বামী ফেরদৌস হাসান সোহানকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ওই গৃহবধূকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে তার স্বামী ফেরদৌস হাসান। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক গৃহবধূ তানহাকে মৃত ঘোষণা করলে গৃহবধূর মৃতদের হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় পাষণ্ড স্বামী।

তারা ২ বছর আগে ভালোবেসে পালিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার কাজীকসবা এলাকার মহিউদ্দিন হালদারের মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের ঘড়ে ১২ মাসের মোঃ মানহাব নামের ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরে স্বজনরা বিষয়টি থানায় অবগত করলে গৃহবধূর স্বামীকে আটক করে পুলিশ।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর স্বামী তাকে অত্যাচার নির্যাতন করতো প্রতিনিয়ত। গতকাল রাতে তাকে হত্যা করে হাসপাতালে মৃতদের ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তারা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন।

নিহতের মামা লুৎফর রহমান জানান, দুই বছর আগে তানহাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তানহাকে সব সময় টাকার জন্য মারধর করতো তার স্বামী। ঘটনার দিন বিকেলে মারধর করে স্বামী সেই মারধরের আঘাত নিয়ে আসে তার নিজের বাড়িতে।

তারপর রাতে তাকে পুনরায় মারধর করে শ্বাসরোধ করে মেরে হাসপাতালে নিয়ে এসে আমাদের খবর দেয়। হাসপাতালে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে তার স্বামী সোহান আমরা তার বিচার চাই।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান জানান। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী ফেরদৌস হাসানকে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূর মৃতদের ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারবেন তারা।

প্রায় দুই বছর আগে মীরকাদিম এনায়েত নগরের ফেরদৌস হাসানের সাথে বিয়ে হয় তানহার। তার মানহাফ নামে ১২ মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।#