স্বামীর সাথে পরকীয়ার সন্দেহে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক মহিলার চুল কেটে দিল আরেক মহিলা।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্বামীর সাথে পরকীয়ার সন্দেহে এক মহিলাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক মহিলার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম রাবেয়া বেগম (৩৭)। সে গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রাবেয়া জানান, দীর্ঘ ১২ বছর আগে তার স্বামী আবুল কালাম তাকে ছেড়ে অন্য আরেক জনকে বিয়ে করে নতুন করে সংসার শুরু করে। সংসার জীবনে তাদের তিন মেয়ে রয়েছে। অভাবের সংসারে হাল ধরতে বাধ্য হয়ে তিনি কিছুদিন স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন পরবর্তীতে শুরু করেন ফেরি করে কাপড় বিক্রির ব্যবসা।
গত শনিবার দিন দিবাগত রাতে স্থানীয় লোকজনের সাথে তিনি সিলেট হযরত শাহ জালাল ও শাহ পরান (রা.) মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গাড়িতে প্রায় ৪৭ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পার্শ্ববর্তী গ্রাম দৌলতপুরের তাইজুদ্দিন। তাইজুদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা বেগমের সন্দেহ হয় তার স্বামী তাইজুদ্দিন তাকে নিয়ে সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছেন।
এদিকে গত সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মাজার জিয়ারত শেষে তারা গজারিয়া ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এসে নামেন। ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড নামার পরই আগ থেকে ওত পেতে থাকা তাইজুদ্দিনের স্ত্রী ফরিদার নেতৃত্বে ৭/৮জন তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। পরবর্তীতে ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড থেকে ৭/৮ কিলোমিটার দূরে রসুলপুর খাদ্য গুদাম সংলগ্ন একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে তারা।
ছুরি দিয়ে তার গায়ের বিভিন্ন অংশ কেটে সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় মরিচের গুড়া। এলাকাবাসীর কাছে কলঙ্কিনী প্রমাণ করতে কেটে দেওয়া হয় মাথার চুলও। তাদের ব্যাপক মার ধরে তিনি জ্ঞান হারান। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কিছু পাঠায়।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব চিকিৎসক ডা. কান্তা রানী দাস বলেন, মহিলার গায়ে বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কয়েকজন মিলে মারধর করেছে তবে তার আঘাত গুরুতর নয় সেজন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে টুনি আক্তার বাদি হয়ে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।