দীর্ঘদিনের অসুস্থে ভিটে মাটি ও সম্বল হীন মানবেতার জীবন যাপন।

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে ৩ সন্তান ও বউ নিয়ে ৫ সদস্যের একটি পরিবার। যার একমাত্র অবিভাবক অর্ধপঙ্গু কর্ম অক্ষম অসুস্থ আলীনুর মিয়া (৫২) নামে ভীটা বাড়িহীন অসহায় ১ পিতা।

আলীনুর মিয়া উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে, অসুস্থ আলীনুর ৫ ভাই ২ বোনের মাঝে বড় ছেলে। তিনি ৩ সন্তানের জনক, বড় মেয়ে সুমি আক্তার (২৫) সাইম (১৭) মাইম (১২) ৪ বছর হয় মেয়েটিকে বিবাহ দেন। ছেলে সাইম ও নাইম নাবালক হওয়ার সংসারে রোজগার করার কেউ নেই, পরিবারে রোজগার করার মতো একমাত্র ব্যাক্তি আলীনুর মিয়া হার্ড এ্যাটাকে বেঁচে গেলেও তার শারীরিক শক্তি নিশতেজ হয়ে প্যারালাইসিসে তাকে কর্মক্ষম করে দেয়। তিনি ঠিকমত হাটাচলা ও কথা বলতে পারেনা, হাতে লাঠি ভরকরে দাঁড়াতে পারলেও হাটতে হয় অন্যের সাহায্য। তার নিজের যায়গা ও ঘর নেই।

এই অবস্থা দেখে একই গ্রামের ফজল হক সরদারের ছেলে মোঃ সৈয়দ হোসেন সহিদ, সদস্য বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন কমিশন সিরাজদিখান শাখা। তিনি তার বাড়িতে খালিঘরে তাকে থাকার যায়গা দেন এবং বৃহপতিবার ১২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১ টায় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদক মোঃ জামাল হোসেন কে কর্মক্ষম অসুস্থ অসহায় আলীনুর মিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন লোকটি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ ওনার ৩ সন্তান কিন্তু কেউ সাবালক না হওয়ায় সংসারে কাজ- রোজগার করার কেউ নেই, অর্ধাহারে, অনাহারে না খেয়ে দিনযাপন করছেন।

এখবর পেয়ে স্বাধীন সংবাদ প্রতিবেদক মোঃ জামাল হোসেন আলীনুর মিয়া’র বাড়িতে যায়, তার দুঃখ দুর্দশা ও কষ্ট সচক্ষে দেখে বিস্তারিত শুনে, জেনে অবগত হয়।

স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলে মোহাম্মদ জহিরুল (৫৫) নামে ও মোঃ আলী হোসেন (৫৭) ও পাশবর্তী বাড়ির উজ্জল (৩৫) জানান আসলে বেপারটা খুব দুঃখজনক, অসুস্থ মানুষ, সংসারে ৫ জন মানুষের সংসার ১ টাকা রোজগার নাই, টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেনা, ভাত খেতে পায়না, নাই থাকার যায়গা, খুব কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির।

এবিষয়ে বালুচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য দুলাল সাহেবের কাছে জান্তে চাইলে তিনি বলেন এই বিষয়টা অত্যান্ত মর্মান্তিক, আমাদের গ্রামে এই একটা লোক ছেলে মেয়ে সংসার নিয়ে খুব কষ্টে আছে। থাকার যায়গা নেই, রোজগার করার কেউ নেই, খেয়ে না খেয়ে, অন্যজনের বাড়িতে ছাপরা তোলে থাকতেছে। আমি যথাসাধ্য ত্রান সাহায্য সহযোগিতা করি। কিন্তু তাতেত তার কিছুই হয়না। যদি কোনো বিত্তবান, দানশীল মানুষ এই অসহায় মানুষটার পাশে দাড়াঁয় হয়তো সে সুস্থ হতেপারে বা কিছুটা ভালো চলতে পারতো।

এবিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান আমি আলীনুর মিয়ার বিষয়ে জানতাম না আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। আগামীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।