মোঃ জাফর মিয়া, মুন্সীগঞ্জঃ
শীতলক্ষ্যায় দূর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরের উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি টেনে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এনে রেখেছে। এখন লঞ্চটির ভিতরে আর কোন মরদেহ আছে কিনা তার তল্যাশী চলছে। ইতোমধ্যে
১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যার মধ্যে গতকাল রবিবার ৫ জন ও আজ লঞ্চ উদ্ধার করার পর ৫ জনসহ মোট এই পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ বুঝে নিতে ঘটনাস্থলে ভীর জমাচ্ছেন স্বজনরা। সেখানে স্বজন হারানোরদের শোকে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
এমন করুন ভাবে এত মৃত্যু মুন্সীগঞ্জবাসী মেনে নিতে পারছে না।
অপর দিকে নিখোঁজদের পরিবারে প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আসায় বুকবেধে আছেন। তাই নদীর তীরে তীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিখোঁজের স্বজণরা। নিখোঁজদের সন্ধানের নৌ-বাহিনী,ফায়ার সার্ভিস ও কোষ্টগার্ডের ডুবরীদল উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মো. রফিকুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে লাশ বহন ও দাফন কাজের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে।
নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তথ্য মাতে এখনো ১৬ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে নৌ-বাহিনী,ফায়ার সার্ভিস ও কোষ্টগাডের ডুবরীদলসহ বিআইডাব্লিটিসিএর উদ্ধার কারী জাহাজ প্রত্যায়।
উল্লেখ্য গতকাল রবিবার (৪ মার্চ)সন্ধ্যায় ‘সাবিত আল হাসান’ নামের একতলা লঞ্চটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিক থেকে আসা অপর একটি মালবাহী জাহাজ লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে মুহূর্তের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে পাঁচ নারীর লাশ উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেয়া হিসাব অনুযায়ী কমপক্ষে ১৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছেন কিনা, বা কোনোভাবে পারে উঠেছেন কিনা তা কেউ বলতে পারছে না। তবে অনেকের ধারণা, যদি প্রাণে বাঁচতে না পারেন তাহলে ওই সময়ে প্রচণ্ড ঝড় থাকায় মৃতদেহগুলো নদীর এই এলাকায় না থেকে অন্যদিকে ভেসে যেতে পারে। আবার লঞ্চের ভেতরে আটকে থাকতে পারে। নদীর পারে দাঁড়িয়ে উদ্ধার অভিযান দেখছেন নিহতদের স্বজনসহ স্থানীয় মানুষ
নিখোঁজদের সঠিক তালিকা করে করে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে নারায়নগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ও আজ লঞ্চ উদ্ধার করার পর আরো ১০জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, দূর্ঘটনায় স্বজণ হারানোদের খোজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার কৃত মরদেহ তাদের পরিবারের মাঝে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।