সরেজমিনে তদন্ত কমিটির ইউজিসির

স্টাফ রিপোর্টার : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত কমিটি। গত রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, ভিসির পিএস, ভিসি কার্যালয় ও বাসভবনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিযোগকারী শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩০-৩২ জন ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ এবং নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দলটি। তবে এদিন ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য।

শুরুতে শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত ৪৫টি অভিযোগের বিষয়ে ইউজিসির দলটি তদন্তে এলেও পরে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের করা সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। ক্যাম্পাসে উপাচার্যের অনুপস্থিতি, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিন নিয়োগে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা, নিয়োগ কমিটি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম আছে কিনা এবং যত অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সব কিছুই খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্বজিৎ চন্দ।

তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, আমরা আগেও ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি। আজ সাক্ষ্য প্রমাণ নেয়া হলো। এসব যাচাই বাছাই করে যদি আরও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় সেগুলো আমরা কালেক্ট করব। তিনি বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর দালিলিক প্রমাণাদিসহ সাক্ষী এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগের সবগুলো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার বিষয়টি প্রধান অভিযোগ।

এ ছাড়া বিভিন্ন জনের দায়িত্ব ভিসি একাই পালন করেন, ইচ্ছে মতো নিয়োগ দেন, এরকম অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের ছাড়াও আর যাদের সাক্ষ্য নেয়া দরকার তাদের সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে উপাচার্যসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানান তদন্ত দলের প্রধান ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। এদিকে উপাচার্য কলিমউল্লাহর দুর্নীতির তদন্ত যেন ভিন্ন খাতে না যায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গত রোববার রাত নয়টায় বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।