মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এসময় উত্তেজীত লোকজন প্রতিপক্ষের দোকানপাট ভাংচুর চালীয়েছে। শনিবার বিকালে সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় এ বিক্ষোভ ও দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিকালে আওয়ামীলীগ কর্মি ফিরোজ এর মরদেহ নিয়ে তার হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌরসভার মিরাপাড়া থেকে বের হয়ে রামগোপালপুর হয়ে বটতলা দিয়ে ঈদ গা মাঠে এসে শেষ। এসময় বিচার চাওয়া উত্তেজীত লোকজন হত্যা কারী প্রতিপক্ষের দোকানপাট ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এঘটনার পর থেকে পুরো পৌর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য আধিপত্য নিয়ে বিভিন্ন সময় সদ্যবিদায় নেয়া পৌর মেয়র মোঃ শহিদুল ইসলাম শাহীন ও জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পাদ বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহম্মেদ কালাম এর লোকজনের মধ্যে বিগত সময়ে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দু’জনের বিরোধ তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফিরোজের নিহত হওয়ার ঘটনাটিও বিবাদমান দুপক্ষের সমর্থকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের একটি ফল।

শহিদুল ইসলাম শাহীন ও মনসুর আহমেদ কালাম পৌর নির্বাচনের পর থেকে ঝামেলা এড়িয়ে চলছেন। তবে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে বিরোধ চলছে। তারই সূত্রধরে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে মিরাকাদিম পৌরসভার মিরাপাড়া রামনগর এলাকায় নিহত ফিরোজের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ফিরোজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত ফিরোজ মিয়া(৩৫) সে মিরকাদিমের মিরাপাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে।সে স্থানীয় বিবদমান আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের রাজনীতিতে জেলা আ.লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালামের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আল আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পৌরসভায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।