মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মাদক-অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে নোঙর করা এম ভি ক্যাপ্টেন নামের একটি পিকনিক বাহী লঞ্চে হানা দিয়ে নারীদের প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকাপয়সা ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সেখানে ছুটে যান থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও বিআইডব্রিউটিএ’র লোকজন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পিকনিকবাহী লঞ্চটিকে ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যেতে সহযোগী করেন বলে জানা গেছে।
অন্য দিকে লঞ্চে নারীদের মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দুপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কমী নেহাল আহমেদ জিহাদকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে পিকনিক পার্টির লোকজনের সাথে স্থানীয়দের মারামারিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। এই সময় পিকনিকের তিনতলা লঞ্চ এভি ক্যাপ্টেন ভাংচুর হয়।
পুলিশ জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে উঠতি বয়সী ৩০০-৪০০ ছেলে-মেয়ে পিকনিক ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এমভি ক্যাপ্টেন লঞ্চ ভাড়া করে। কিছ ছেলে-মেয়েরা লঞ্চের ছাদে গান-বাজনা ও নাচ করে। সদর ঘাট থেকে রওনা হয়ে চাদপুট ঘুরে লঞ্চটি আবার ঢাকায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮ টায় মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থামায়।
এই সময় লঞ্চে থাকা ৮-১০ জন ছেলে মেয়েরা চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য নিচে নামলে অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে লঞ্চঘাটে থাকা ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়। ঘাটে থাকা ৫০-৬০ জন ছাত্র-জনতা লঞ্চটিতে উঠলে পিকনিকের ছেলে-মেয়েদের সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লঞ্চে থাকা ছেলে মেয়েদের হেনস্তা ও মারপিট করে। এই সময় লাঠিসোটা নিয়ে লঞ্চে ভাংচর চলায়। এক পর্যায়ে দুই নারীকে লঞ্চের
সামনে এনে প্রকাশ্যে প্রহার করে। খবর পেয়ে
সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ছাত্র-জনতা দাবি করেছে- অশ্লীলতার কারণে স্থানীয়া ক্ষুব্ধ হয়। পিকনিকের লঞ্চটিতে মাদকের আড্ডা বসেছিল।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির জানান, পিকনিকের লোকজন দাবি করেছেন তাদের মারপিট ছাড়াও মোবাইলসহ নানা কিছু নিয়ে গেছে। তবে তারা পিকনিকের লোকজনকে গন্তব্য পৌছে দিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ
পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করে তদন্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেহাল আহমেদ জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তা মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হবে।
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
১০.০৫.২০২৫