নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মুন্সীগঞ্জের ল্যাবএইডে লিমিটেডের বিরুদ্ধে ভুল মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ গত ২রা মার্চ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল সার্জন। এই কমিটি সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকেলও ১৫ দিনেও শেষ হয়নি তদন্তের কাজ।
একেক পর এক অভিযোগ থাকলেও ল্যাবএইডে বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের এমন উদাসীনতার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নারী জাকিয়া সুলতানা দোলা।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ দিনেও দ্বন্দ্ব রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। তারা আমাকেও ডাকেনি।
তিনি বলেন, ল্যাবএইডে লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি জেলাবাসির স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তাদের সাথে বসতে চাইনি। আমি চাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
তবে এই বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এটিএম ওবাইদুল্লাহ বলেন, আমি এক মাস হয়েছে মুন্সীগঞ্জে এসেছে। নানান কারণে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে চুড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট সিএস মহোদয়ের কাছে জমা দেওয়া হবে।
তবে টাকা দিয়ে অভিযোগকারীকে ম্যানেজ করার বিষয়টি জানতে চাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ল্যাবএইডে লিমিটেডের ম্যানেজার পলাশ চন্দ্রকে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য- ল্যাবএই রক্তের পরীক্ষায় ভুল মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী জাকিয়া সুলতানা দোলা (২৪)।
অভিযোগে তিনি লিখেছেন, ‘শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকসের মুন্সীগঞ্জ শাখায় মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মমতাজুল হক অমির শরনাপন্ন হই। তিনি আমাকে প্রথমেই CBC টেস্ট (রোগীর যেকোনো ধরণের ব্যাধি সনাক্তে রক্ত পরীক্ষা) করে নিয়ে আসতে বলেন।
আমি তৎক্ষণাৎ ল্যাবএইডের কাউন্টার থেকে রিসিট কেটে টেস্ট করতে দেই। দুই ঘন্টা পর আমার রিপোর্ট প্রস্তুত হলে সেটি নিয়ে পুনরায় নিয়ে ডাক্তারকে দেখাই।
রিপোর্ট দেখে তিনি আমাকে জানান, আমার রক্তের মোট WBC এর পরিমাণ ১৪ হাজার এবং আমার রক্তে বড় ভাইরাস হয়েছে। এই ভাইরাসের কারণে আমার শরীরে ক্যান্সারের সংক্রমণ হতে পারে।
তার কথা শুনে আমি ভয় ও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ি। এরপর আমি ল্যাবএইডে করানো ওই রিপোর্টটি আমার পরিচয় গোপন রেখে অন্য কয়েকজন পরিচিত ডাক্তারকে দেখাই। তারা আমাকে বলেন যে, এই রিপোর্টটি যার তাকে দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।
তার জীবন শঙ্কায় রয়েছে। এরমধ্যে একজন আমাকে পরামর্শ দেন, অন্য কোন ডায়াগনস্টিকস সেন্টারে পুনরায় একটি টেস্ট করিয়ে নিতে।
পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে আমি শহরের রেনেসা ডায়াগনস্টিক কেয়ারে পুনরায় একটি CBC টেস্ট করাই। পরে সেটি আবার ল্যাবএইডের ডা. মমতাজুল হককে দেখালে তিনি সেটি দেখে বলেন, আমার টেস্টের রিপোর্ট ভালো ওস্বাভাবিক।